দৌলতপুরে ২৩ দিনে ৪৭ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত
কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আশঙ্কাজনক হারে অ্যানথ্রাক্স রোগের বিস্তার ঘটেছে। চলতি সেপ্টেম্বরের গত ২৩ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ৪৭ জন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
আক্রান্তদের অধিকাংশই অসুস্থ গবাদিপশু জবাই, কাঁচা মাংস কাটাকাটি কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছেরদিয়াড় গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকেই অসুস্থ গরু কাটাকাটির পর চর্মরোগ ও তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে তাঁদের হাত ও আঙুলে ওঠা ফোসকা ও গুটি বড় হয়ে কালো ক্ষতে পরিণত হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের অ্যানথ্রাক্স রোগ শনাক্ত হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পূর্বে সীমান্তঘেঁষা নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে রোগী আসছেন। আর্থিক ক্ষতির ভয়ে খামারিরা অসুস্থ গরু জবাই করে কম দামে মাংস বিক্রি করার কারণেই রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে এলাকায় পশুকে টিকা প্রদান ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। তবে গোপনে অসুস্থ পশু জবাই বন্ধ না হলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, অসুস্থ পশু জবাই ও মাংস বিক্রি বন্ধে মাঠে সচেতনতার পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা