অস্ট্রিয়ায় যেভাবে দিন দিন বাড়ছে মুসলিমের সংখ্যা

প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ণ
অস্ট্রিয়ায় যেভাবে দিন দিন বাড়ছে মুসলিমের সংখ্যা

ধর্ম ডেস্ক: ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ অস্ট্রিয়ায় খ্রিস্টধর্মের পর ইসলাম এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। সময়ের সাথে সাথে অস্ট্রিয়ার সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে মুসলিমরা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন।

অস্ট্রিয়ায় মুসলিমদের ইতিহাসের সূত্রপাত মূলত ১৯০৮ সালে, যখন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক মুসলিম এই অঞ্চলে বসবাস শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯১২ সালে ইসলামকে অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ধর্মের মর্যাদা দেওয়া হয়। ১৯৬০-এর দশকে তুরস্ক ও বসনিয়া থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের হাত ধরে দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে ‘ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি অব অস্ট্রিয়া’ দেশটির ২৫০টিরও বেশি ইসলামী সোসাইটি ও মসজিদের দেখভাল করছে। অস্ট্রিয়ার মূলধারার রাজনীতিতেও মুসলিমদের অংশগ্রহণ দৃশ্যমান। ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মুনা দুজদার দেশটির ফেডারেল সরকারে প্রথম মুসলিম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মুসলিম সম্প্রদায়ের এই পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১৯ সালের মে মাসে অস্ট্রিয়ার পার্লামেন্টে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য হিজাব নিষিদ্ধ করে আইন পাস করা হয়। এর ফলে আইন অমান্য করলে জরিমানা বা আইনি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনকে বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করেছে।

বিভিন্ন সময় ডানপন্থী সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তৎকালীন চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্ৎস হিজাব নিষেধাজ্ঞার বয়সসীমা ১৪ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে একে ‘রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান’ বলে অভিহিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে এবং কট্টরপন্থীদের সন্তুষ্ট করতেই এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল।

এতসব রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের মধ্যেও অস্ট্রিয়ার মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা ধরে রেখে দেশটির উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন