খালিয়াজুরীতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্লাবের অনুদানের অর্থ লোপাট এবং কর্মস্থল নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসায় নিয়মিত অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য এবং স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ মাত্র তিন মাস হলেও মো. হাবিবুল্লাহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় দুই বছর (২১ মাস) ধরে আহ্বায়কের পদ আঁকড়ে ধরে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি ক্লাবের কোনো সাধারণ সভা বা পূর্ণাঙ্গ কমিটির নির্বাচন দেননি।
প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উৎস থেকে ক্লাবের নামে প্রায় ৫ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হলেও এর আয়-ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। অনুদানের এই বিপুল অর্থ হাবিবুল্লাহ নিজের মতো করে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ।
প্রেসক্লাব সদস্য মামুন ইয়ার চৌধুরী বলেন, "প্রেসক্লাবের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। এখানে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সব প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।"
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. হাবিবুল্লাহ নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার একজন এমপিওভুক্ত কর্মচারী। পাশাপাশি তিনি ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা থেকে প্রকাশিত একাধিক দৈনিক পত্রিকার খালিয়াজুরী উপজেলা প্রতিনিধি এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা হিসেবে নিজের পরিচয় বহন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতা, ক্লাবের দাফতরিক কাজ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকার অজুহাতে তিনি বছরের পর বছর মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন না করেই নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) উত্তোলন করছেন।
নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদ্রাসার সুপার হারুন অর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "হাবিবুল্লাহ সপ্তাহের অধিকাংশ কর্মদিবসেই মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন। বিষয়টি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীমকে লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল।"
উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলী হাসান চৌধুরী পিন্টুসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন এমপিওভুক্ত কর্মচারী কীভাবে প্রতিষ্ঠান ফাঁকি দিয়ে অন্য পেশায় পূর্ণসময় ব্যয় করেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মো. হাবিবুল্লাহ। তিনি বলেন, "আমি প্রায় ২১ মাস ধরে প্রেসক্লাবের দায়িত্ব পালন করছি, এটি সত্য। তবে খুব শিগগিরই সাধারণ সভা আহ্বান করা হবে। অনুদানের অর্থ ব্যবহারে কোনো অনিয়ম হয়নি। আমি ব্যক্তি স্বার্থে কোনো আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করি না।"
এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুল বারী বলেন, "সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত কোনো কর্মচারীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত সাংবাদিকতা বা অন্য কোনো সংগঠনের লাভজনক/পূর্ণকালীন দায়িত্বে থাকার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নেত্রকোনার সচেতন মহল মনে করছেন, প্রেসক্লাবের অনুদানের অর্থের হিসাব প্রকাশ, মাদ্রাসায় অনুপস্থিতির অভিযোগ যাচাই এবং প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের এখনই দ্রুত তদন্তে নামা উচিত।
এআইএল/সকালবেলা
|