কীভাবে কঠিন কাজের জন্য মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করবেন

প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ণ
কীভাবে কঠিন কাজের জন্য মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করবেন

জীবনযাপন ডেস্ক: কাজটা যে জরুরি, তা আপনি জানেন। কিন্তু ল্যাপটপ অন করা বা বই খোলার পরও যেন হাত উঠছে না। দিনের পর দিন এই কাজ ফেলে রাখাকে আমরা সাধারণত ‘অলসতা’ বলে ভুল করি। তবে ইউনিভার্সিটি অব এডিনবরার স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. ডমিনিক এনজির মতে, এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু প্রতিরোধ।

মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি এড়াতে এবং শক্তি সঞ্চয় করতে চায়। কোনো কঠিন, বিশাল বা অনিশ্চিত কাজের মুখোমুখি হলে মস্তিষ্ক দুই ধরনের প্রতিরোধ তৈরি করে

বড় কাজকে যখন ভীতিকর মনে হয়, তখন মস্তিষ্ক নেতিবাচক আবেগ তৈরি করে। যেমন—‘পুরো বাড়ি পরিষ্কার করতে হবে’ ভাবলে চাপের সৃষ্টি হয়, কিন্তু ‘একটি প্লেট পরিষ্কার করব’ ভাবলে কাজটা সহজ লাগে। ‘আমি গণিতে কাঁচা’ বা ‘আমি পারফেকশনিস্ট’—নিজেকে নিয়ে এই ধারণাগুলো ব্যর্থতার ভয়ে আমাদের কাজ শুরু করতে বাধা দেয়।

পুরো কাজের চাপ না নিয়ে মাত্র দুই মিনিট কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিন। একবার শুরু করলে কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়ে যায়। সরাসরি কাজ শুরু করতে ভয় লাগলে শুধু প্রস্তুতির কাজ করুন। যেমন—জিমের পোশাক পরা বা ল্যাপটপ অন করা। এতে গতি তৈরি হয়। কাজ শেষ করার বিনিময়ে নিজেকে ছোট কোনো পুরস্কার বা আনন্দদায়ক কিছুর প্রলোভন দেখান। কঠিন কাজের সঙ্গে প্রিয় পডকাস্ট, চা বা গান যুক্ত করুন। এতে কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। ‘নিখুঁত হতে হবে’—এই চিন্তা বাদ দিয়ে ‘চেষ্টা করে দেখছি’ বা ‘পরীক্ষা চালাচ্ছি’—এমন মানসিকতা গড়ুন। ‘ব্যায়াম করতে হবে’ না বলে ভাবুন ‘আমি একজন ব্যায়ামপ্রেমী’। মস্তিষ্ক নিজের পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজে বেশি আগ্রহী হয়।

মস্তিষ্ককে সঠিক কৌশলে পরিচালিত করতে পারলে কঠিন কাজগুলোও অনেক সময় আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। আজ থেকেই ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে শুরু করে দেখুন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন