কটিয়াদীতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাদ্যসামগ্রী নামানোর অভিযোগ

প্রকাশ: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাদ্যসামগ্রী নামানোর অভিযোগ
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে মালবাহী গাড়ি থেকে খাদ্যসামগ্রী নামানোর অভিযোগ উঠেছে। ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত করার ঘটনায় তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বাইরে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের পাশে একটি মালবাহী গাড়ি রাখা রয়েছে। ওই গাড়ি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী নামিয়ে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, এসব খাদ্যসামগ্রী সরকারি টিফিন কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরাই গাড়ি থেকে খাদ্যসামগ্রী নামানোর কাজে অংশ নেয়।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ ধরনের কাজ করানোর সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন এবং কাজের সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের মতো ব্যস্ত সড়কের পাশে যানবাহন চলাচলের সময় শিক্ষার্থীদের দিয়ে মালামাল বহন করানো কতটা নিরাপদ ও দায়িত্বশীল—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার মূল উদ্দেশ্য পড়াশোনা করা। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাই অভিযোগটি সত্য হয়ে থাকলে কার নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের দিয়ে খাদ্যসামগ্রী নামানো হয়েছে এবং এতে কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজের বক্তব্য জানতে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
একই বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
এদিকে, সরকারি টিফিন কর্মসূচির খাদ্যসামগ্রী বিদ্যালয়ে সরবরাহ ও বিতরণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং শিক্ষার্থীদের কেন এ কাজে সম্পৃক্ত করা হলো—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জনস্বার্থে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিয়মের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

মন্তব্য করুন