ঈদের আগে বুথে বুথে টাকার সংকট, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: কোথাও টাকা শেষ, কোথাও ‘আউট অব সার্ভিস’, আবার কোথাও টাকা থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথে এমন চিত্রই দেখা গেছে। নগদ টাকা তুলতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক গ্রাহক ফিরছেন খালি হাতে। ফলে ঈদের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে শেষ মুহূর্তে নগদ অর্থ তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে টানা সাত দিনের ছুটির মুখে পড়েছে দেশের ব্যাংক খাত। আজ রোববার (২৪ মে) ঈদের আগের শেষ কার্যদিবস হওয়ায় সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এটিএম বুথে বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আর সেই চাপ সামলাতে না পেরে অনেক বুথে দেখা দিয়েছে নগদ অর্থের সংকট।
রাজধানীর রামপুরা এলাকায় একটি বুথে টাকা তুলতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী রহমান মাসুম। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তিনি জানতে পারেন বুথে টাকা নেই। একই চিত্র দেখা গেছে মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন বুথে। মতিঝিলে সেনা কল্যাণ সংস্থার ভবনের নিচে ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথে এবং পাশের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথেও নগদ অর্থ না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহক আবুল কালাম। শুধু এটিএম বুথ নয়, মগবাজারে উত্তরা ব্যাংকের একটি শাখাতেও সাময়িক নগদ অর্থ সংকটের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ইসলাম নামে এক গ্রাহক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। কোনো ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকে এসে টাকা না পেয়ে ফিরে যায়নি। এখন কোনো ব্যাংক যদি নিজস্ব গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহে ব্যর্থ হয়, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক যদি এ বিষয়ে অবহেলা করে বা গ্রাহকসেবায় ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো টানা সাত দিনের ছুটিতে থাকবে।
|