গাজায় ইসরাইলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাপার্সনসহ নিহত ৬

প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ অপরাহ্ণ
গাজায় ইসরাইলি হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাপার্সনসহ নিহত ৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর পৃথক হামলায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা মুবাশির’-এর ক্যামেরাপার্সন আহমেদ ওয়াশাহ রয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (২০ জুন) গাজার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এই বর্বর হামলা চালানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণ করা হলে ক্যামেরাপার্সন আহমেদ ওয়াশাহ নিহত হন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি এই হত্যাকাণ্ডকে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এছাড়া গাজা সিটির আল-থালাতিনি এলাকার একটি বাড়িতে ইসরাইলি ড্রোন হামলায় শিশুসহ একই পরিবারের চার সদস্য প্রাণ হারান। পাশাপাশি বেইত লাহিয়াসহ উত্তর গাজার বেশ কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় আরও অনেকে হতাহত হয়েছেন।

এক বিবৃতিতে আল জাজিরা নেটওয়ার্ক তাদের কর্মীকে সুনির্দিষ্টভাবে নিশানা করে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের ১২ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। ইসরাইলি এই যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বৈশ্বিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত একজন করে ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হচ্ছে। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন, উপত্যকার শিশুরা আজ কোথাও নিরাপদ নয়; ঘরবাড়ি, বিদ্যালয় কিংবা মাঠে খেলাধুলা করার সময়ও তারা নির্মম হামলার শিকার হচ্ছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উপত্যকায় জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে যেখানে ৬ হাজার ৭৬টি শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা কমে মাত্র ২ হাজার ৪টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জন্মহার প্রায় ৬৭ শতাংশ কমে গেছে। একই সাথে এপ্রিল মাসেই ৯২১টি গর্ভপাতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, উপর্যুপরি বোমাবর্ষণের বিষাক্ত ধোঁয়া, ধূলিকণা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকটের কারণেই এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য করুন