ভেনিসে হেনস্তার শিকার বাঁধন: ‘আমাকে জোর করে জয় বাংলা বলতে বাধ্য করা হয়েছে’

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ণ
ভেনিসে হেনস্তার শিকার বাঁধন: ‘আমাকে জোর করে জয় বাংলা বলতে বাধ্য করা হয়েছে’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে গিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন ভিডিও বার্তায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিচার দাবি করেছেন তিনি।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ একদল ব্যক্তি বাঁধনকে উদ্দেশ্য করে নানা অপমানসূচক মন্তব্য করছেন। তাদের একজন ভিডিওতে বাঁধনকে নির্দেশ করে নিজেকে 'ভেনিস ছাত্রলীগ' কর্মী পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তারা এক 'দেশদ্রোহী ও জুলাই জঙ্গলকে' আটক করেছেন। বাঁধনের দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অপবাদ তুলে ধরে তার ওপর চড়াও হন তারা। পরে বাঁধনের ভাই তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনাপরবর্তী ভিডিও বার্তায় ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় লাল হয়ে যাওয়া ফোলা মুখ নিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন বাঁধন।

তিনি বলেন, "আমি আমার ভাই ও ছোট্ট শিশুর সঙ্গে একটি পার্কে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই এসে আমাকে শারীরিকভাবে চরম হেনস্তা করে। আমার শরীরে পানি ও কোমল পানীয় ছুড়ে মারে, যা দিয়ে আমি পুরো ভিজে যাই। শুধু তাই নয়, তারা আমার কানের কাছে আঘাত করেছে এবং হাতের ফোন ফেলে দিয়েছে।"

আক্রমণকারীদের উদ্দেশ্য ও স্লোগান জোরপূর্বক আদায়ের চেষ্টা প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, "তারা আমাকে জুলাই যোদ্ধা বলে আখ্যা দিয়েছে। হ্যাঁ, আমি জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। তারা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক দাবি করে আমাকে জোরপূর্বক 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে এবং সেই দৃশ্যগুলো ক্যামেরায় ধরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।"

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, "আপনারা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা হয়তো জানেন না যে আমি ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যে চলচ্চিত্রটি নিয়ে এসেছি, তার পরিচালক রুবাইয়াত হোসেন। তিনি আপনাদের দলেরই একজন সম্মানিত মন্ত্রীর সন্তান। আমি জুলাইয়ের ঘটনার পরই তার সঙ্গে কাজ শুরু করেছি। আপনাদের এমন অসংলগ্ন ও আক্রমণাত্মক আচরণ থেকে বের হয়ে আসা উচিত। ভেবেছিলেন এভাবে নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠন করবেন, কিন্তু এই আচরণে সেটি কখনই সম্ভব নয়।"

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রাজনৈতিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মাধ্যমে সোচ্চার ভূমিকার কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে ভেনিসের স্থানীয় একটি পুলিশ স্টেশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

মন্তব্য করুন