তীব্র দাবানলে পুড়ছে ইন্দোনেশিয়া, বন্ধ করা হয়েছে বহু স্কুল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ অপরাহ্ণ
তীব্র দাবানলে পুড়ছে ইন্দোনেশিয়া, বন্ধ করা হয়েছে বহু স্কুল
জাভা ও বোর্নিও দ্বীপের বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নেভাতে কাজ করছেন দমকলকর্মী ও হেলিকপ্টার টিম। (ছবি: সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি ‘এল নিনো’র প্রভাব ও অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রার কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। আগুন ও দাবানল থেকে নির্গত ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে দেশটির একাধিক অঞ্চল, যার প্রভাবে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশ কয়েকটি অঞ্চলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

দেশটির বোর্নিও দ্বীপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পন্টিয়াক শহরের মেয়র এডি রুসদি কামতোনো জানিয়েছেন, চারপাশের বনাঞ্চলের আগুনে উৎপন্ন ধোঁয়ায় পুরো শহর ধোঁয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। বায়ুমণ্ডলের দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছানোয় শিশুদের শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিতে ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে এবং অনলাইনের মাধ্যমে বাড়ি থেকেই পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভোরবেলা এবং রাতের দিকে ধোঁয়ার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে।

অন্যদিকে, পর্যটনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত জাভা দ্বীপের ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু ন্যাশনাল পার্কে গত নয় দিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে পার্কটির প্রায় ৯০০ হেক্টর এলাকা (যা ১,২০০টি পূর্ণাঙ্গ ফুটবল মাঠের সমপরিমাণ) ইতোমধ্যে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত শনিবার থেকেই ওই সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জনপ্রিয় পর্বত এলাকায় পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পর্বতগাত্রে ছড়িয়ে পড়া এই আগুন নেকাতে কয়েক শত দমকলকর্মী, পুলিশ সদস্য এবং সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ওয়াটার-বোম্বিং হেলিকপ্টার ও ফায়ার ট্রাক নিয়োজিত রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা (BMKG) জানিয়েছে, এ বছর শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘায়িত ও তীব্র খরা দেখা দিয়েছে, যা দাবানলের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত দেশটির ১ লাখ ৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি ভূমি দাবানলে পুড়ে গেছে, যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ।

সারাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ছয়টি সংকটাপন্ন প্রদেশে প্রায় ৪৮ হাজার সদস্যের জরুরি বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। শুষ্ক পরিস্থিতি কাটাতে এবং কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য বিশেষ বিমানে মেঘের ওপর ক্লাউড সিডিং (লবণ ও সিলভার আয়োডাইড ছিটানো) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে যে, দেশে জরুরি খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

মন্তব্য করুন