টিকটক লাইভে কে-পপ ইনফ্লুয়েন্সার মিনা চ্যানের আত্মহত্যার ঘটনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অব্যাহত কটূক্তি, হয়রানি ও বিষোদ্গার সহ্য করতে না পেরে টিকটক লাইভ সম্প্রচার চলাকালেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন জনপ্রিয় কে-পপ ইনফ্লুয়েন্সার মিনা চ্যান।
দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসকারী ২৬ বছর বয়সী এই জাপানি ইনফ্লুয়েন্সার জনপ্রিয় কে-পপ বয় ব্যান্ড ‘এনহাইপেন’ (ENHYPEN)-এর ফ্যানডমে একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ হাজারের বেশি।
সংবাদমাধ্যম কোরিয়া হেরাল্ড ও ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট সিউলের ইয়ংসান জেলায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে টিকটক লাইভ করার সময় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। লাইভ চলাকালীনই বেশ কয়েকজন অনুসারী অশুভ কিছু টের পেয়ে জরুরি সহায়তার জন্য স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে ভোর ৫টা ৩৩ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরদিন ৬ আগস্ট মিনা চ্যানের ছোট বোন ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক আবেগঘন বার্তা শেয়ার করে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।
যে কারণে শুরু হয় ট্রোলিং:
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে এনহাইপেনের একটি কনসার্ট চলাকালে ব্যান্ড সদস্য ‘সুনু’র মাধ্যমে অপর সদস্য ‘নি-কি’র (Niki) কাছে ফুল পাঠানোর একটি চেষ্টা করেন চ্যান। বিষয়টি এনহাইপেনের কিছু উগ্র সমর্থক ও ভক্ত ভালোভাবে নেয়নি। মিনা চ্যানের বিরুদ্ধে তারকাদের ব্যক্তিগত পরিসর ও সীমানা লঙ্ঘনের কঠোর অভিযোগ তুলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার ওপর তীব্র চড়াও হয় একশ্রেণির নেটিজেন।
সমালোচনার ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে গত ৩১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি দীর্ঘ ও বিনয়ী ক্ষমা প্রার্থনা বার্তা পোস্ট করেছিলেন মিনা চ্যান। সেখানে তিনি লেখেন—
"আমার মনে হয়েছে আমি ব্যান্ড সদস্য সুনুর দয়ালু আচরণের অনুচিত সুযোগ নিয়ে ফেলেছি। আমি সত্যিই গভীরভাবে লজ্জিত ও দুঃখিত। বারবার ফ্যানসাইন ইভেন্টে অংশ নেওয়ার কারণে ভুলবশত ভেবেছিলাম আমি হয়তো ব্যান্ডের প্রিয় কেউ হয়ে উঠেছি; কিন্তু বাস্তবতা তা ছিল না। কনসার্টের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করার জন্য আমি অনুতপ্ত।"
তবে এই দীর্ঘ ক্ষমা প্রার্থনার পরও থামেনি সাইবার বুলিং। একের পর এক তোপ ও বিদ্বেষপূর্ণ বার্তায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি, যা শেষ পর্যন্ত তাকে করুণ আত্মহননের দিকে ঠেলে দেয়। মিনা চ্যানের এমন অকাল প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে কে-পপপ্রেমী ও সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘বিষাক্ত ফ্যানডম কালচার’ বন্ধের দাবি জোরালো হচ্ছে।
|