হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮৮০
অনলাইন ডেস্ক: সারা দেশে সংক্রামক রোগ ‘হাম’-এর বিস্তার ও উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ কাটছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাষে এ পর্যন্ত নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হাম-সংক্রান্ত জটিলতায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮০ জনে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে দেশের সার্বিক হাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রকাশিত বার্তায় বলা হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় সরাসরি নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু না হলেও, হামের উপসর্গযুক্ত সন্দেহজনক রোগে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগে ৯৮ জন এবং সন্দেহজনক আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে ১০৭ জনের শরীরে নিশ্চিত হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একই সময়ে আরও ৮৭২ জন নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছেন। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৮৪ জনে এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৮৫ জনে।
বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর চিত্রে ঢাকা শীর্ষে:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভৌগোলিক সীমানা বিচারে হামের প্রকোপ এবং মৃত্যু উভয় ক্ষেত্রেই রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
নিশ্চিত হামে মৃত্যু: ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে ৩ এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ২ জন করে মারা গেছে।
সন্দেহজনক হামে মৃত্যু: সন্দেহজনক হামের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৪২ জন প্রাণ হারিয়েছে। এর বাইরে সিলেটে ১২৫, রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৭২, চট্টগ্রামে ৬ই, বরিশালে ৪৬, খুলনায় ৩২ এবং রংপুর বিভাগে ১৩ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে।
স্বাস্থ্য বিশ্লেষক ও চিকিৎসকেরা শিশুদের সময়মতো প্রতিরোধক টিকা প্রদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে র্যা শ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
|