রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে: চিফ হুইপ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে: চিফ হুইপ
সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখছেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম।

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। এর ফলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর নির্দেশিত বা মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে না সংসদ সদস্যদের; কেউ দলীয় নির্দেশ অমান্য করলে স্বাভাবিকভাবেই তার সংসদীয় আসন বা সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণ পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে সংসদ সচিবালয়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এক উচ্চপর্যায়ের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ হুইপ জানান, ঘোষিত নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের ভেতরে নির্ধারিত বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র পেশ ও যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ১৮ আগস্ট রাতপর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সুযোগ থাকবে। তিনি জানান, সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি, প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রার্থী মনোনীত করবেন এবং মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই সেই প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে আনা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নূরুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, "সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনো বিলের মাধ্যমে সংশোধিত বা বাতিল হয়নি, তাই নির্বাচনে এর আইনি বাধ্যবাধকতা শতভাগ কার্যকর থাকবে। কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বাধীন বা ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রদান করলে সংবিধান অনুযায়ী তার সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।"

নির্বাচনের প্রশাসনিক ও প্রচারিক স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি তুলে ধরেন:

  • সরাসরি সম্প্রচার: রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারের ভোটাধিকার প্রয়োগের সময় গণমাধ্যম সরাসরি সম্প্রচারের সুযোগ পাবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত পুরোটাই গণমাধ্যমে সরাসরি দেখানো যাবে।

  • ভোটের সংখ্যা ও ব্যবস্থাপনা: নির্বাচনে সর্বমোট ৩৪৯ জন ভোটার (এমপি) তাদের নির্ধারিত আসন ও বিভক্তি নম্বর ব্যবহার করে স্বচ্ছ ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করবেন।

  • সময়সীমা ও ফলাফল: সকল সদস্য বিকেল ৫টার আগেই ভোট দেওয়া সম্পন্ন করলে সাথে সাথে গণনা শুরু করে ফলাফল দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

  • ইসির দায়িত্ব: মূল রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা পালন করবেন স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এটি পরিচালনা করবে এবং সংসদ সচিবালয় সার্বিক সাচিবিক সহায়তা দেবে।

মন্তব্য করুন