দলের বাইরে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে কি না তা রাজনৈতিক প্রশ্ন: ইসি সচিব

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ
দলের বাইরে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে কি না তা রাজনৈতিক প্রশ্ন: ইসি সচিব
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ও আইনি দিক নিয়ে কথা বলছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কিংবা বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রদান করলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে কি না—তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানান। এর আগে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে একটি যৌথ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬’-এর ভোটিং পদ্ধতি ও সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের মূল অধিবেশন কক্ষে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট চলাকালে সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনেই অবস্থান করবেন এবং ইসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সহায়তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। সদস্যদের স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটদানের জন্য অধিবেশন কক্ষে ৩টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে।

ব্রিফিংকালে সাংবাদিকরা জানতে চান—নির্বাচনে যদি প্রধান দলগুলো পৃথক প্রার্থী দেয় এবং কোনো সংসদ সদস্য নিজের দলের প্রার্থীর বাইরে ভোট (ক্রসিং ভোটিং) দেন, তবে সেই ভোট গণনা করা হবে কি না এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে তাদের সদস্যপদ শূন্য করার এখতিয়ার বা আইনি পদক্ষেপ থাকবে কি না।

উত্তরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, "রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা ক্রসিং ভোটিং সংক্রান্ত জটিলতাগুলো সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভরশীল। এগুলো রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়বস্তু, যার সাথে নির্বাচন পরিচালনার কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়ার সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই। নির্বাচন কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো বিধিবদ্ধ নিয়মে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।"

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে—কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন বা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তবে সংসদে তাঁর আসন শূন্য বলে গণ্য হবে।

মন্তব্য করুন