দেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ণ
দেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিন পাটকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ প্রদান চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশকে সর্বাঙ্গীনভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে একটি শক্তিশালী ও টেকসই অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশীয় বিনিয়োগ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উদ্যোক্তাদের সব ধরণের নীতি সহায়তা প্রদান করা হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের হাতে লিজ হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, “জনগণের সার্বিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তবেই একটি রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী ভিত্তি পায়। সাধারণ মানুষকে ক্রমাগত অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের মুখ বন্ধ রাখার মাধ্যমে কোনো দেশ বা রাষ্ট্র কখনোই শক্তিশালী হতে পারে না।”

দেশীয় প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:

  • উদ্যোক্তাদের সহায়তা: দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

  • সবার জন্য উন্নত জীবন: সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটা বাংলাদেশ গঠন করতে চাই, যেখানে প্রত্যেকে এখন যে আর্থ-সামাজিক অবস্থায় অবস্থান করছেন, ভবিষ্যতে তার থেকে আরও উন্নত ও ভালো অবস্থানে থাকবেন।”

  • দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের ভারসাম্য: সরকার অবশ্যই বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি করতে আগ্রহী, তবে দেশের নিজস্ব বিনিয়োগকারী ও দেশীয় ব্যবসায়ীদের মর্যাদা ও সুরক্ষা প্রথম অগ্রাধিকার পাবে। দেশীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে যতটুকু নীতিগত সমর্থন দরকার, তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোকে পুনরায় চালু ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লাভজনক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ লিজ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে বন্ধ কারখানাগুলোতে পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের পাট খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

মন্তব্য করুন