দক্ষিণ লেবাননে দাবানল সৃষ্টি করে পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ লেবাননে দাবানল সৃষ্টি করে পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে
দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ আগুন।

গাজা উপত্যকায় সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার বিশ্বব্যাপী সমালোচনার পর, এবার লেবাননে প্রাকৃতিক পরিবেশকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। দক্ষিণ লেবাননের দমকলকর্মী, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন—চলমান উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ওই অঞ্চলের বনাঞ্চল ও কৃষিজমিতে দাবানল সৃষ্টি করে পরিবেশ ও জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির নির্দেশ সত্ত্বেও প্রতিদিন দক্ষিণ লেবাননে আগুন ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে প্রাচীন জলপাইবাগান, ফলজ বাগান ও ঘন বনাঞ্চলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বেসামরিক প্রতিরক্ষা প্রধান হুসেইন ফাকিহ জানান, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ছোট ছোট ড্রোনের সাহায্যে দাহ্য পদার্থ ও সাদা ফসফরাসের গোলা ফেলে প্রতিদিন রুটিন করে আগুন লাগাচ্ছে। এতে সীমান্ত লাগোয়া ফ্রন্টলাইনের অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমি এবং মূল্যবান গাছপালা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

দমকলকর্মীদের ওপর হামলা ও পরিবেশহত্যার অভিযোগ:

  • আগুন নেভাতে বাধা: গত মঙ্গলবার খিয়ামের একটি বনাঞ্চলে ইসরায়েলি ফ্লেয়ার থেকে ধরে যাওয়া আগুন নেভাতে গেলে দমকল কর্মীদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়, ফলে নিরাপত্তার তাগিদে উদ্ধার দল সেখান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

  • কৃষি ও প্রকৃতি ধ্বংসের কৌশল: বিশেষজ্ঞরা একে ‘ইকোসাইড’ বা ‘পরিবেশহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রাচীন ওক ও উচ্চফলনশীল স্টোন পাইন গাছ ধ্বংস হওয়ায় সংকটে পড়ছে এই অঞ্চলের পরিযায়ী পাখিসহ নানা বন্যপ্রাণী।

  • মধ্যযুগীয় কৌশল ও আগাছানাশক: ২০২৩ সালের পর থেকেই ইসরায়েলি সেনারা সীমান্ত সংলগ্ন গাছপালা পোড়াতে মধ্যযুগীয় ‘ট্রেবুশে’ নামক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক ব্যবহার করেছে এবং কৃষিজমিতে বিষাক্ত ক্যান্সার সৃষ্টিকারী আগাছানাশক ওষুধ ছড়িয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

ইয়ারুন গ্রামের মেয়র হাফেজ ঘাশাম অভিযোগ করেন, গ্রামটিকে বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পর অবশিষ্ট থাকা প্রাচীন জলপাইবাগানগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী অতীতে দাবি করেছিল যে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা আত্মগোপনের জন্য বনাঞ্চল ব্যবহার করে; তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন—ইসরায়েলের এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে বেসামরিক জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।

মন্তব্য করুন