জার্মান পার্লামেন্টের সামনে জাতীয় পতাকা সরিয়ে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন
সকালবেলা অনলাইন: গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে নীরবতা এবং ইসরায়েলপন্থি নীতির প্রতিবাদে জার্মান পার্লামেন্টের সামনের একটি পতাকা টাঙানোর খুঁটি থেকে দেশটির জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করেছেন একদল অধিকারকর্মী। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বার্লিনে এই অভিনব প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে। ‘পিসফুলি অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড’ (শান্তিপূর্ণভাবে গণহত্যার বিরুদ্ধে) নামের একটি সংগঠন এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার ঘটনায় জার্মান রাজনীতিকদের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র প্রতিবাদ জানানোই ছিল এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
সংগঠনটির সদস্য অ্যারন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ফিলিস্তিনে সংঘটিত গণহত্যার বিষয়ে নীরব থাকা, তা হতে দেওয়া কিংবা পরোক্ষভাবে সমর্থন জোগানোর মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার সাধারণ জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছে না।
তিনি আরও বলেন, "বিশ্বের যেখানেই গণহত্যা সংঘটিত হোক না কেন, তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আমাদের সবাইকে প্রভাবিত করে। মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত এই অপরাধ বন্ধ করার দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।"
সাধারণ জার্মান জনগণের কাছে জোরালো বার্তা পৌঁছাতেই এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অ্যারন কিছু কড়া প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মানুষ যদি চোখের সামনে আরও একটি গণহত্যা ঘটতে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে দেওয়া ‘আর কখনো নয়’ (Never Again) এই অঙ্গীকারের অর্থ কী দাঁড়ায়? সরকারগুলো যদি আন্তর্জাতিক আইন মেনে না চলে, তবে সেই আইনের মূল্যই বা কী? আর মানবাধিকার যদি সব মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য না হয়, তবে মানবাধিকারের সার্বজনীনতার মানে কী থাকে?
তিনি যোগ করেন, "যখন গাজার মতো জায়গায় জীবন্ত নরক বাস্তবে পরিণত হয়, তখন নাগরিক সমাজের নৈতিক দায়িত্ব হলো নিজেদের ভূমিকা পালন করা এবং সবার স্বাধীনতা ও জীবনের সুরক্ষায় সোচ্চার হওয়া।"
এদিকে, এই ঘটনার পর বার্লিন পুলিশ জানিয়েছে যে ঘটনাস্থল থেকে তিন অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতীক অবমাননার অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হয়েছে।
‘পিসফুলি অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড’ সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে জার্মান সরকারের একপাক্ষিক ইসরায়েলপন্থি নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটিতে অব্যাহত অস্ত্র সরবরাহের বিরুদ্ধে তারা আরও কঠোর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। বিশেষ করে, ইসরায়েলে সব ধরনের অস্ত্র সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ এবং বার্লিনে নিজেদের কারখানা বন্ধের দাবিতে বিখ্যাত অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাইনমেটাল’-এর বিরুদ্ধেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
সূত্র: মিডিল ইস্ট মনিটর
এআইএল/সকালবেলা