৫ আগস্ট গণভবনে উল্লাস ও ভাঙচুর: শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ও যুগান্তকারী অধ্যায়টি রচিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের তীব্র মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তার দেশত্যাগের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অতি সুরক্ষিত সরকারি বাসভবন 'গণভবন'-এর নিয়ন্ত্রণ নেয় হাজার হাজার উৎফুল্ল ছাত্র-জনতা।
৫ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে ভারতের উদ্দেশে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার আগে জাতির উদ্দেশে একটি বিদায়ী ভাষণ রেকর্ড করার সুযোগও তিনি পাননি।
সরকারপ্রধানের দেশত্যাগের খবর আসার মাত্র ঘণ্টাখানেকের মাথায়, বিকেল ৩টার দিকে বিজয়ী সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা গণভবনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। মুহূর্তের মধ্যেই কোটি জনতার দখলে চলে যায় প্রধানমন্ত্রীর পুরো বাসভবনটি।
দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের পতনে উৎফুল্ল জনতার একটি অংশকে গণভবন প্রাঙ্গণে উল্লাস করার পাশাপাশি ভবনের ভেতরের নানা মূল্যবান আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, টেলিভিশন, এমনকি ফুলের টব, বালতি ও রান্নাঘরের মালামাল নিয়ে বের হতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, ক্ষমতার এই আকস্মিক ও ঐতিহাসিক পালাবদলের মুহূর্তে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের রূপরেখা তৈরি করতে সেনা সদর দপ্তরে জরুরি বৈঠকে বসেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
উক্ত নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্ট গণভবনে সাধারণ মানুষের এই গণপ্রবেশ ও ক্ষমতার আকস্মিক পতন বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার গতিপথ চিরতরে বদলে দেয়।
|