দুর্গাপূজায় নৌপথে নিরাপদে যাতায়াতে সরকারের ১৬ দফা জরুরি নির্দেশনা
অনলাইন ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নৌপথে লাখো যাত্রীর নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
দুর্ঘটনা এড়ানো, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা, ফিটনেসবিহীন নৌযান নিষিদ্ধ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখাসহ ১৬টি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পালের স্বাক্ষরে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের সকল দপ্তরে বাস্তবায়নের জন্য পাঠানো হয়েছে।
১. নির্ধারিত পন্টুন ব্যবহার: যাত্রীদের কেবল নির্ধারিত টার্মিনাল ও পন্টুন ব্যবহার করে নৌযানে ওঠানামা করতে হবে। সদরঘাটসহ যেকোনো নদীবন্দরে নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকার সাহায্যে লঞ্চে বিপজ্জনকভাবে যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে।
২. ভাড়া নিয়ন্ত্রণ: প্রতিটি লঞ্চ ও নৌযানে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।
৩. ফিটনেসবিহীন নৌযান নিষিদ্ধ: ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ, ট্রলার, ফেরি কিংবা নৌযান কোনো অবস্থাতেই চলাচল করতে পারবে না।
৪. স্পিডবোট চলাচলে কড়াকড়ি: রাতে সব ধরনের স্পিডবোট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। দিনের বেলা চলাচলের সময় নদীর মাঝখান দিয়ে স্পিডবোট চালানো যাবে না এবং প্রতিটি যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক।
৫. জরুরি উদ্ধার ও ফায়ার সার্ভিস: নৌদুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখতে হবে। একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ও পন্টুনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে।
৬. টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা: সদরঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালে হকার, ক্যানভাসারদের প্রবেশ এবং অবৈধ পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রবেশপথে নৌযানের সময়সূচী, রুট ও পন্টুন নম্বর সম্বলিত ডিজিটাল বা স্পষ্ট বোর্ড প্রদর্শন করতে হবে।
৭. ফেরি ঘাটের নিয়মাবলী: ফেরিতে ওঠার আগেই চালক ছাড়া বাকি সব বাস ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের নেমে যেতে হবে। এ বিষয়ে ঘাটে দৃশ্যমান সাইনবোর্ড টানাতে হবে।
৮. যাত্রীসেবা উন্নয়ন: বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সুবিধার জন্য টার্মিনালে নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন, বিশ্রামাগার, পর্যাপ্ত আলো ও মোবাইল চার্জিং পয়েন্টের ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি যোগাযোগের হটলাইন নম্বর:
নৌযাত্রায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট বা তথ্য জানাতে ৪টি হটলাইন নম্বর প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯
ফায়ার সার্ভিস: ১০২
বিআইডব্লিউটিএ যাত্রীসেবা: ১৬১১৩
কোস্ট গার্ড: ১৬১১১
এছাড়া আবহাওয়ার তাৎক্ষণিক খবরাখবরের জন্য ১০৯০ অথবা ০২-৪১০২৫৭৩০ ও ০২-৪১০২৫৭৩১ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।