ইরানকে সাহায্য করলে চীন-রাশিয়ার অনেক কিছু হারানোর আশঙ্কা আছে: ট্রাম্প

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানকে সাহায্য করলে চীন-রাশিয়ার অনেক কিছু হারানোর আশঙ্কা আছে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইরানকে চীন কিংবা রাশিয়া ‘বিন্দুমাত্রও’ সাহায্য করছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে সহায়তার পথে হাঁটলে মস্কো ও বেইজিংয়ের বৈশ্বিক স্বার্থ ও বাণিজ্যে অনেক কিছু হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) গভীর রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক সমালোচক ও বিরোধীদের বক্তব্যের জবাব দেন। বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ তুলে আসছেন যে চীন ও রাশিয়া পর্দার আড়াল থেকে ইরানকে কৌশলগত ও সামরিক মদদ দিচ্ছে।

এর জবাবে ট্রাম্প লেখেন, “যদি তারা সাহায্য করে থাকে, তবে তা অত্যন্ত সামান্য হতে পারে। তবে আমি তা মোটেও বিশ্বাস করি না। কারণ তাদের হারানোর মতো অনেক কিছু আছে। তারা যদি সত্যিই সহায়তা করত, তবে আমরা তা অতি দ্রুতই জেনে যেতাম।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র বৈরিতা ও সামরিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছিলেন যে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সমঝোতাপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছেন।

যদিও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মস্কো ও বেইজিং ঐতিহ্যগতভাবেই তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের ওপর যেকোনো একতরফা সামরিক সংঘাত বা পদক্ষেপকে সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করে আসছে।

তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল—ইরান চীনা প্রযুক্তির সহায়তায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করছে এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব দাবিকে বারবার গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং বেইজিং-মস্কোকে কোনো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে সতর্ক রেখেছেন।