ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে হরমুজ পেরোনোর চেষ্টা, জাহাজে হামলা চালাল ইরান
অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগত আন্তর্জাতিক রুট 'হরমুজ প্রণালি'-তে অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচলের অভিযোগে একটি বাণিজ্যিক সুপারট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী 'ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস' (আইআরজিসি)। ইরানি বাহিনীর জোরালো হামলায় নৌযানটিতে তাৎক্ষণিকভাবে ভয়াবহ আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক হামলা চালানোর পর থেকেই আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখে তেহরান। জবাবে ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করে নৌযানগুলোকে সামরিক পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর পর থেকেই ইরানের অনুমতি ব্যতিরেকে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইরানি নৌবাহিনী।
আইআরজিসির অফিশিয়াল সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ নিউজে’ প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে বাহিনীটি জানায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) লক্ষ্যবস্তু করা বিশালাকার সুপাারট্যাংকারটি নিজের অবস্থান লুকানোর উদ্দেশ্যে ইচ্ছা করে 'ট্রান্সপন্ডার' বা গতিবিধি শনাক্তকরণ সংকেত পাঠানোর যন্ত্র বন্ধ রেখেছিল। একই সাথে আইআরজিসির নৌঘাঁটি থেকে পাঠানো বেতার সতর্কবার তাও সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিল জাহাজটি।
এর আগে গত শনিবার আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার আলি ওজমায়ি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় শনাক্ত হওয়া এড়াতে যেসব জাহাজ নিজেদের স্থান নির্দেশক ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখবে, সেগুলোকে 'শত্রু ভাবাপন্ন' হিসেবে সরাসরি গণ্য করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা নজরদারি সংস্থা 'ইউকেএমটিও' (UKMTO) সোমবার নিশ্চিত করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে কেবল এই সুপারট্যাংকারই নয়, বরং পৃথক অন্তত চারটি ঘটনায় বিভিন্ন জাহাজে আঘাত হানার ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সর্বাত্মক সামরিক সংঘাত হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ অচল করে ফেলার ঝুঁকিতে ফেলেছে, যা বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি ডেকে আনছে।