যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের নতুন সংকট

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের নতুন সংকট

অনলাইন ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতে এবং দেশটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক পদক্ষেপ নিলেও বৈশ্বিক রাজনীতির জটিল সমীকরণে তা বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।

বিশেষ করে, মার্কিন মধ্যপশ্চিমাঞ্চলের কৃষিনির্ভর রাজ্যগুলোতে কৃষিযন্ত্র চালানো ও পণ্য পরিবহনের অপরিহার্য উপাদান 'ডিজেল'-এর আকাশচুম্বী মূল্য কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প সম্প্রতি যে রাশিয়া মুখাপেক্ষী কৌশল নিয়েছেন, তা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে উল্টো ট্রাম্পের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। ওই চুক্তির শর্তানুযায়ী, মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম কমাতে আগামী মাসগুলোতে রাশিয়া থেকে শত শত কোটি টন ডিজেল আমদানি করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ উদ্দেশ্যে ট্রাম্প মার্কিন ট্রেজারি বিভাগকে রুশ ডিজেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করারও নির্দেশ দেন।

তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে খোদ তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। কংগ্রেসের চারজন সিনিয়র রিপাবলিকান সেনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে যুক্ত হয়ে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ২০২২ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া 'ইউক্রেন যুদ্ধ প্রতিরোধ আইন'-এর সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেনেটররা অবিলম্বে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের জোর দাবি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন।

ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি নতুন "জ্বালানি যুদ্ধবিরতি" চুক্তি অর্জনের বড়াই করলেও বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এ ধরনের কোনো চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন তাঁদের আগে থেকে কিছুই জানায়নি। ট্রাম্পের উদযাপনের পরদিনই ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

এর প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কি ব্যঙ্গাত্মক সুরে মন্তব্য করেন, "পুতিন হয়তো ট্রুথ সোশ্যাল পড়েন না।" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শীতের মৌসুমে রাশিয়া হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেনও রুশ শোধনাগারগুলোতে ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেবে। ট্রাম্প এর আগে জেলেনস্কির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউক্রেনের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিলেও রুশ শোধনাগারে ইউক্রেনীয় হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও উঁচুতে উঠে গেছে।

ইউক্রেন পরিস্থিতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়া সহিংসতা ট্রাম্পের হিসাব-নিকাশ আরও গোলমেলে করে দিয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও জ্বালানি পরিকাঠামোতে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একান্তে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনি এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক টেরি হেইনসের মতে, বিশ্ব জ্বালানি সংকট থেকে নজর ঘোরাতে এবং মার্কিন ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ট্রাম্প কূটনৈতিক স্তরে দ্রুত কোনো চুক্তির জাঁকজমকপূর্ণ ঘোষণা দিলেও বাস্তব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার বর্তমানে প্রতি গ্যালনে ৬ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন নীতির এই টানাপোড়েন ট্রাম্পের জনসমর্থনে বড় ধরণের ধাক্কা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।