হামজা চৌধুরীকে ছাড়াই সাফ শুরু করবে বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সম্মানজনক ফুটবল প্রতিযোগিতা 'সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ' শুরু হতে বাকি আর হাতে গোনা কিছুদিন। তবে সাফের মূল লড়াই শুরুর আগেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ফিফার অফিশিয়াল উইন্ডো সূচির জটিলতার কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তারকা ফরোয়ার্ড হামজা চৌধুরীসহ প্রায় ৯০ শতাংশ প্রবাসী ফুটবলারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে দলকে।
আগামী ৪ নভেম্বর থেকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে। অন্যদিকে ফিফার অফিশিয়াল উইন্ডো চালু হবে ৯ নভেম্বর থেকে। তবে এর আগেই ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফে নিজেদের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ।
জাতীয় দল কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানান, প্রবাসীদের ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য পূর্ণাঙ্গ শক্তিশালী স্কোয়াড পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর ক্লাব ম্যাচ রয়েছে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ফলে ৯ নভেম্বরের আগে তিনি বা অন্য প্রবাসী ফুটবলাররা দলে যোগ দিতে পারছেন না। বাফুফে সভাপতি বলেন, “সাফে উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য আমরা পূর্ণ স্কোয়াড পাব না। ৯০ শতাংশ প্রবাসী খেলোয়াড়কে ৯ নভেম্বরের পরেই পাব। ফলে প্রথম ম্যাচের পর আমাদের হয়তো একাদশ ও কৌশলে ভিন্নতা এনে খেলতে হবে। সাফের আবাসিক ক্যাম্প শুরু হবে ২৫ অক্টোবর।”
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অফিশিয়াল উইন্ডোর বাইরে বিদেশ থেকে কোনো দল এনে বা বিদেশি কোনো ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছে বাফুফে।
সর্বশেষ আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন জাতীয় দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। তাঁর ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে বাফুফে প্রধান বলেন, “ফুটবল বিশ্বে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের পরিবর্তন স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। আমরা দলীয় স্বার্থে যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারি। আসিয়ান কাপের ব্যর্থতা নিয়ে প্রতিটি বিভাগকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে।”
বাফুফে সভাপতি আরও জানান, ভবিষ্যতে বিশ্বমানের প্রবাসী প্রতিভাবান ফুটবলারদের খুঁজে বের করতে বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইংল্যান্ডে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য বছরে দুটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। পরবর্তীতে একই স্কাউটিং কার্যক্রম ইউরোপের অন্যান্য দেশেও সম্প্রসারণ করবে বাফুফে।