নদ-নদীর পানি বাড়ছে: বন্যার সতর্কবার্তা

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ অপরাহ্ণ
নদ-নদীর পানি বাড়ছে: বন্যার সতর্কবার্তা

বিশেষ প্রতিবেদন: দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে টানা ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের কারণে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদী ইতিমধ্যেই বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া তিস্তা, সুরমা, কুশিয়ারা ও যাদুকাটাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কসীমায় পৌঁছে গেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন এই বর্ষণ অব্যাহত থাকলে দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি বা বিদ্যমান অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পাউবোর বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টার নদীর পানি পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী স্টেশনে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেখানে নদের পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে নীলফামারীর ডালিয়া, রংপুরের কাউনিয়া ও লালমনিরহাটের তারাপুরে তিস্তা নদী, সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদী, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে যাদুকাটা নদী সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে একটিতে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে দেশের সর্বোচ্চ ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরী স্টেশনে। এ ছাড়া রংপুরের বদরগঞ্জে ৯৩ মিলিমিটার, কুড়িগ্রামে ৮২ মিলিমিটার, চিলমারী ও নীলফামারীর ডালিয়ায় ৮০ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

একই সময়ে বাংলাদেশের উজান অঞ্চলে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ২০৩ মিলিমিটার এবং আসামের ডিব্রুগড়ে ১০৫ মিলিমিটার অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর প্রভাবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগামী ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে গঙ্গা ও পদ্মার পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

 আগামী তিন দিনে তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা এবং ৪৮ ঘণ্টায় ধরলা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। সুরমা নদীর পানি বাড়লেও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। এই তিন বিভাগের প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে আগামী তিন দিন পানি কিছুটা বাড়লেও তা বিপৎসীমা অতিক্রম করবে না।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন