গৌরীপুরে আ.লীগ নেতার দোকানের তালা ভেঙে ৩ টন সার জব্দ

প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ
গৌরীপুরে আ.লীগ নেতার দোকানের তালা ভেঙে ৩ টন সার জব্দ
গৌরীপুর সার জব্দ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৩ টন সার দোকানের তালা ভেঙে জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতার সার ও কীটনাশকের দোকানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গতকাল রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের পালুহাটি বাজারে এ বিশেষ অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমিন পাপ্পা।

অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর নাম রফিকুল ইসলাম সুজন। তিনি উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পালুহাটি বাজারে ‘সুজন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানে কীটনাশক ও সার বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পালুহাটি বাজারে সারের অবৈধ মজুতের তথ্য পায় স্থানীয় প্রশাসন। রবিবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজারে আসার খবর পেয়ে সুজন তাঁর দোকানের শাটার বন্ধ করে দ্রুত এলাকা থেকে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে তল্লাশি চালান। তল্লাশিকালে দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৩ টন ২৫ কেজি টিএসপি এবং ২৫ কেজি ইউরিয়া সার উদ্ধার করে তা তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

একই অভিযানে ওই বাজারের অপর ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের দোকানে অভিযান চালানো হয়। তাঁর দোকানেও অবৈধভাবে প্রায় ২ টন সার মজুত রাখার প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অপরাধ স্বীকার করায় পালুহাটি গ্রামের মৃত রুকন উদ্দিনের ছেলে আতাউর রহমানকে ভোক্তা অধিকার ও সার নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

গৌরীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত সারের গুণগত মান নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “জব্দ করা সারগুলো নকল বা ভেজাল কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য সারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বিভাগীয় গবেষণাগারে (ল্যাব) পাঠানো হচ্ছে।”

অভিযান পরিচালনাকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমিন পাপ্পা জানান, অসাধু উপায়ে সারের অবৈধ মজুত গড়ে তোলা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারে সারের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে প্রশাসনের এ ধরনের ঝটিকা নজরদারি ও কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য করুন