শাহজালাল বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল চালুর আগে পরিচালন চুক্তি বড় চ্যালেঞ্জ, ১৬ ডিসেম্বর নিয়ে সংশয়
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত আধুনিক তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর লক্ষ্যমাত্রা বলবৎ থাকলেও এর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) সংক্রান্ত চুক্তি শেষ না হওয়ায় বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে।
জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এই পরিচালনা চুক্তি সম্পাদনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগোলেও চুক্তির পর আবশ্যকীয় প্রস্তুতি শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় মিলবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
প্রস্তাব পর্যালোচনা ও চুক্তির বর্তমান অবস্থা:
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনাল পরিচালনা ও আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সোপর্দ করতে আগ্রহী জাপানি কনসোর্টিয়ামকে ইতোমধ্যে ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ (আরএফপি) প্রদান করা হয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই এই কনসোর্টিয়ামের পক্ষ থেকে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাব জমা হওয়ার পর আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তা মূল্যায়ন, পর্যালোচনা এবং আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় দরদাম চূড়ান্ত হবে।
সব প্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন হলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চুক্তি পরবর্তী জটিলতা ও প্রস্তুতির সময়সীমা:
তবে কেবল চুক্তি সই হওয়াই যথেষ্ট নয়; চুক্তি সম্পাদনের পর নতুন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানের এই সুবিশাল টার্মিনাল সচল করতে বিশাল প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
আন্তর্জাতিক মানের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ প্রদান ও তাদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দান।
বিমানবন্দরের জটিল সফটওয়্যার ও অত্যাধুনিক সিস্টেমসমূহ হস্তান্তর বুঝে নেওয়া।
সিএএবি-এর সাথে সমন্বয় সাধন করে কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
এসব জটিল কারিগরি প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে স্বাভাবিক নিয়মেই কয়েক মাস সময় লাগে। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে চুক্তি সম্পন্ন হলেও ডিসেম্বরের প্রথমার্ধের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে টার্মিনাল চালু করা অত্যন্ত চ্যালেন্জিং হয়ে দাঁড়াবে।
উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা:
বিমানচালনা খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৩য় টার্মিনালের মতো মেগা ও বিশ্বমানের ডিজিটাল স্থাপনা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার আগে পরিচালনাকারী দলকে পর্যাপ্ত ‘ড্রাই রান’ ও প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া জরুরি। চুক্তি করতে বেশি বিলম্ব হলে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসবে, যা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাপানি কনসোর্টিয়াম দায়িত্ব বুঝে না পেলে ১৬ ডিসেম্বরের মাইলফলক অর্জন কঠিন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ৩য় টার্মিনাল উদ্বোধনের নির্ধারিত সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
|