২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী করতে চান চিফ হুইপ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ণ
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী করতে চান চিফ হুইপ
নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও শরিক জোটের মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।

মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থক:

চিফ হুইপ জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন দলের অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ ভবনেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ও বিরোধী পক্ষ:

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকেও এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি পদে পৃথক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, "যেহেতু উভয় পক্ষ থেকে শক্ত প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তাই আগামী ২০ তারিখের নির্বাচন যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক হবে।"

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দলের নতুন মহাসচিব কে হবেন—এ প্রশ্নের বিষয়ে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কোনো আগাম সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয়, বিধি অনুযায়ী নির্বাচন ও দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবিধান সংস্কার ও 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন:

'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ স্পষ্ট বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সরকারের স্পষ্ট অবস্থান হলো 'জুলাই সনদে'র কমা, দাঁড়ি বা বিন্দুর নীতিগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংবিধান নতুন করে রচনার বিষয়টিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন:

  • সংবিধানের ধারাবাহিকতা: ১৯৫০ সালে ভারত সংবিধান গ্রহণ করার পর ২০২৬ সাল পর্যন্ত তারা ১০৬ বার সংশোধন এনেছে, কিন্তু মূল সংবিধান বাতিল বা নতুন করে লেখেনি।

  • সংশোধনের আওতা: সংবিধানের একটি মাত্র কমা পরিমার্জন করা হলেও সেটি সংবিধান সংশোধনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সংবিধান: সকল রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের সুচিন্তিত মতামত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রকাঠামো জোরদার করতেই জুলাই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে।

মন্তব্য করুন