ধানমন্ডি ও গুলশান লেক সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জলাধার পুনরুদ্ধার এবং নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে রাজউক ও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে সাথে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। আজ রবিবার (১২ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ধানমন্ডি ও গুলশান লেকের সংস্কার, উন্নয়ন এবং অত্যাধুনিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন সংক্রান্ত এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বিশেষ উদ্যোগে ধানমন্ডি লেক ব্যাপক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ এবং লেক প্রাঙ্গণে নতুন করে ‘নজরুল সরোবর’ নির্মাণের প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনসংক্রান্ত মেগা প্রকল্পগুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে ঢাকার লেকগুলোর দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত গুলশান ও বারিধারা লেকের সঙ্গে সংযুক্ত আশেপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সব অবৈধ বর্জ্য নির্গমন লাইন খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই সমস্ত অবৈধ লাইন পুরোপুরি বন্ধে কঠোর ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শাহাদাৎ হোসেন আরও বলেন, বৈঠকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নেতৃত্বে গুলশান লেক সার্বক্ষণিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, লেকের চারপাশের সৌন্দর্যবর্ধন এবং সামগ্রিক পরিবেশগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকার লেকগুলো পুনরুদ্ধার ও পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিজস্ব স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের বিষয়ে কয়েকটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকল প্রকল্পগুলো কোনো ধরণের কালক্ষেপণ না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন এবং রাজধানীর পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণে সকল সংস্থাকে পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম khan, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
|