মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি

প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: উজানে ও সীমান্ত এলাকায় নতুন করে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। মনু, ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারাসহ জেলার প্রধান প্রধান নদীর পানি এখন বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষজন নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত দুর্গতদের জন্য সরকারিভাবে ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এর ফলে দুই উপজেলার ৩৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। হঠাৎ বন্যায় নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়।

প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, একামধু, কান্দিরকুল; মনসুরনগর ইউনিয়নের শ্বাসমহল, বকসীকোনা এবং কুলাউড়া উপজেলার শিকরিয়া এলাকার অন্তত ১০টি গ্রাম।

উজান থেকে আসা আকস্মিক বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী (৭০) নামের এক প্রবীণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, ঢলের পানিতে ভেসে নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবার সকালে আকুয়া এলাকায় মনু নদীর রিং বাঁধের কাছ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যাকবলিতদের জন্য জেলায় মোট ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নেন। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় অনেকেই এখন ঘরে ফিরছেন।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: খালেদ বিন অলীদ জানান, ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ৩টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তবে উজানে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি আরও জানান, ধলাই নদীর ভাঙন স্থান মেরামত নিয়ে ভারতের আপত্তি থাকলেও, জেলার নদী রক্ষা বাঁধগুলোর ভাঙন রোধে পাউবি সর্বোচ্চ সতর্ক নজরদারি রাখছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন