শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতে: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

প্রকাশ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতে: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সংবাদচিত্র।

অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করবে না; বরং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' রবিবার (১৬ আগস্ট) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আনা অভিযোগগুলো ভারতীয় আইনের দৃষ্টিতেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা প্রত্যর্পণ বিষয়ক বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার বর্তমান কূটনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে 'সর্বোচ্চ অবস্থান' থেকে সমঝোতার পথ উন্মুক্ত করতে নিবিড় যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২০১৩ সালের দ্বি-পাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির বিধান অনুসরণ করে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর জন্য আনুষ্ঠানিক নথিপত্র নয়া দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, আবেদনটি নিয়ম অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চুক্তির ধারা অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ প্রত্যর্পণের আওতাবহির্ভূত হলেও হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো মারাত্মক বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক অপরাধের সুবিধা না দেওয়ার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন (Extradition Act, 1962) অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আবেদন গ্রহণ করার পর প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একজন বিশেষ তদন্তকারী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তে অপরাধের প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পেলে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করবেন, অন্যথায় অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার রাখবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হওয়ায় তাকে ফেরত আনার আইনি তাগিদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, সামগ্রিক ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ বিবেচনায় রেখে আদালত এবং কূটনৈতিক আলোচনার জোড়া পথেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।

মন্তব্য করুন