ব্রিকসে না গিয়ে তারেক রহমান দেশের সম্মান বাড়িয়েছেন: রিজভী

প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ণ
ব্রিকসে না গিয়ে তারেক রহমান দেশের সম্মান বাড়িয়েছেন: রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান হিসেবে যথাযথ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সম্মান ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের পরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারিগরি ত্রুটির অজুহাত তুলে ভারতীয় কোম্পানি আদানি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল।

আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে অবস্থিত জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “একটি আত্মমর্যাদাশীল স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান না থাকায় তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। এটি কোনো আপস নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। কিন্তু তিনি সম্মেলনে না যাওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করার ঠিক পরদিনই কারিগরি ত্রুটির মিথ্যা অজুহাতে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশকে চাপে ফেলার কৌশল ছিল, তা দেশের সাধারণ মানুষও খুব স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পেরেছে।”

ভারতে অবস্থানরত অভ্যুত্থানপূর্ব অপরাধীদের হস্তান্তরের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীন আদালত থেকে সুস্পষ্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা এবং সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কূটনৈতিক তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গভীর কোনো চক্রান্তের অংশ। বাংলাদেশে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ ও গণহত্যার বিচার চলছে, তাদের আশ্রয় দিয়ে কেন বিচারের মুখোমুখি হতে বাধা দেওয়া হচ্ছে?”

দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও রাজনৈতিক সুশাসনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, “বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করলেও বর্তমান সরকারের কঠোর আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের কারণে দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্সের রেকর্ড প্রবাহ শুরু হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলমান জ্বালানি ঘাটতি টেকসইভাবে কাটিয়ে তুলতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে সরাসরি এলএনজি ও গ্যাস আমদানির কার্যকর প্রক্রিয়া পুরোদমে চলছে।”

নাগরিক স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, “বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশে গণমাধ্যমের অবাধ বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। বিরোধী দল এখন রাজপথে ও সংসদে অবাধে সরকারের সমালোচনা করতে পারছে; দেশে কারও ওপর জুলুম, নির্যাতন কিংবা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আয়নাঘরের মতো গুমের কোনো ঘটনা ঘটছে না।”

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিনের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে রিজভী বলেন, “একাত্তরের মহান শহীদ মধুর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনের কোনো ঐতিহ্য বা মর্যাদা বিনষ্টের অপচেষ্টা এ দেশের সচেতন ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।”

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা দল, প্রজন্ম দল এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য করুন