রুহুল কবির রিজভীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ, ধানমন্ডি থানায় জিডি

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ণ
রুহুল কবির রিজভীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও পেজ, ধানমন্ডি থানায় জিডি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ছবি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত  মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক ভুয়া আইডি ও পেজ পরিচালনার বিরুদ্ধে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় রুহুল কবির রিজভীর ব্যক্তিগত সহকারী মশিউর রহমান ধানমন্ডি থানায় উপস্থিত হয়ে এই জিডি দায়ের করেন। আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

দায়েরকৃত সাধারণ ডায়েরিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, রুহুল কবির রিজভী ব্যক্তিগতভাবে কোনো ফেসবুক আইডি, প্রোফাইল কিংবা অফিশিয়াল পেজ পরিচালনা করেন না। ফলস্বরূপ, তাঁর নামে পরিচালিত যেকোনো অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত কোনো বক্তব্য, রাজনৈতিক মন্তব্য, ছবি বা ভিডিও তাঁর অনুমোদিত নয়।

জিডিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রুহুল কবির রিজভীর নাম, ছবি ও পদবি ব্যবহার করে বেশ কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজ পরিচালনা করছে। এর মধ্যে একটি পেজকে বিভ্রান্তিকরভাবে ‘ব্লু ভেরিফায়েড’ হিসেবে অনুমোদন করানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং এসব অ্যাকাউন্টকে তাঁর প্রকৃত আইডি বলে বিশ্বাস করার ফাঁদ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগে প্রকাশ করা হয়, এসব ভুয়া পেজ ও প্রোফাইল থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মতামত, মিথ্যা উদ্ধৃতি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত সুনাম ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগেও পল্টন থানায় একই বিষয়ে একাধিকবার সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।

এ প্রেক্ষাপটে জিডিতে পুলিশের কাছে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে: ১. রুহুল কবির রিজভীর নামে পরিচালিত ভুয়া আইডি ও পেজগুলোর বিষয়ে দ্রুত প্রযুক্তিগত তদন্ত সম্পন্ন করা।

২. অপরাধমূলক পোস্ট, ছবি ও ভিডিওর ডিজিটাল প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা।

৩. সংশ্লিষ্ট ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারী চক্রটিকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা।

৪. মেটা (ফেসবুক) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্লু ভেরিফায়েডসহ সকল ভুয়া পেজ অবিলম্বে বন্ধ বা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া।

৫. সাইবার সুরক্ষা আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইনের আওতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট হওয়ায় দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন