বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসন ও কওমি সনদের স্বীকৃতিসহ ১০ দফা প্রস্তাব জমিয়তের

প্রকাশ: শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসন ও কওমি সনদের স্বীকৃতিসহ ১০ দফা প্রস্তাব জমিয়তের

স্টাফ রিপোর্টার: বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন, কওমি সনদের স্বীকৃতি অনুযায়ী সম্মানজনক চাকরির সুযোগ সৃষ্টি এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারসহ ১০ দফা জাতীয় প্রস্তাব উত্থাপন করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির 'কেন্দ্রীয় শুরা অধিবেশন-২০২৬'-এ এসব দাবি পেশ করা হয়।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি পরিচালিত হয়। সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদদীন যাকারিয়া যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেন।

অধিবেশনে উত্থাপিত প্রস্তাবনায় বলা হয়, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও বাস্তবে জনজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব মেলেনি। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও সার্বিক বাজার ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ সংকট কাটাতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজার সিন্ডিকেটের অশুভ তৎপরতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি ওঠে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীন আইনি ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানানো হয়। নির্বাচন প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, সব ধরনের অব্যবস্থাপনা ও পক্ষপাত দূর করে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না করলে জনমনে অসন্তোষ বাড়বে।

কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি প্রসঙ্গের উল্লেখ করে প্রস্তাবে বলা হয়, দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ আলেমদের কেবল প্রাথমিক বা দাখিল স্তরের কারী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়। তাঁদের মর্যাদা অনুযায়ী আলিয়া মাদ্রাসা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সম্মানজনক পদে নিয়োগের দাবি জানান নেতারা। এছাড়া সরকারি ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা বণ্টনে দলীয় স্বজনপ্রীতির তদন্ত চেয়ে নিরপেক্ষ নীতিমালার দাবি তোলা হয়।

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে জমিয়ত নেতারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত বন্ধে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও অপসংস্কৃতির আগ্রাসন প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়।

প্রস্তাবনায় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের সমালোচনা করা হয় এবং মহানবী (সা.) ও ইসলামের পবিত্রতা রক্ষায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

এআইএল/সকালবেলা