১১ কোটির মাশুল: ঈশ্বরদীতে উদ্বোধনের পরও অচল দুই মার্কেট
মো. হাসান ইসলাম, পাবনা: উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও কোনো কাজে আসছে না পাবনার ঈশ্বরদী পৌর এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি আধুনিক মার্কেট। ভবন দুটি সম্পূর্ণ চালু না হওয়ায় একদিকে যেমন আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব হাতছাড়া হচ্ছে পৌরসভার। পাশাপাশি স্থাপনাগুলোর পাহারা ও রক্ষণাবেক্ষণেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ব্যয়।
ঈশ্বরদী পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট শহরের স্টেশন রোড এলাকায় 'পৌর সুপারমার্কেট-২'-এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত আট তলাভিত্তিক অবকাঠামোর প্রথম তলার নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের মাঝামাঝি শেষ হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৯ কোটি টাকা, যেখানে ২৩টি দোকান ও পার্কিংয়ের সুবিধা রাখা হয়েছে।
অপরদিকে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঈশ্বরদী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় 'দৈনিক কাঁচাবাজার মার্কেট' নির্মাণ করা হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই ভবনটি চালুর জন্য ঈশ্বরদী পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে হস্তান্তরের প্রায় এক বছর কেটে গেলেও এটি সচল করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুটি মার্কেটের দরজাতেই ঝুলছে তালা। দীর্ঘদিনের অব্যবহার ও অবহেলায় চারপাশে জমা হয়েছে ধুলোবালি ও ময়লা-আবর্জনা।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, পৌর সুপারমার্কেট-২-এর দোকান বরাদ্দে ১৮ থেকে ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চড়া অগ্রিম জামানত চাওয়ায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থান ও স্থান নির্বাচনের ভুলের কারণে কাঁচাবাজার মার্কেটটিও আলো দেখেনি।
ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, "তৎকালীন পৌর মেয়র ইসাহক আলী মালিথার সময় সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া ৯ কোটি টাকার সুপারমার্কেট প্রকল্প নেওয়া হয়, যা এখন গুদামঘরে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মূল বাজার থেকে এক কিলোমিটার দূরে পরিত্যক্ত স্থানে কাঁচাবাজার তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনাহীন ও অপচয়মূলক এসব প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক সরোয়ারুজ্জামান মনা বিশ্বাস মন্তব্য করেন, "জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া জরুরি ছিল। সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই আজ ১১ কোটি টাকার প্রকল্প নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে।"
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং নির্মাণ শেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হস্তান্তর করা হয়। এটি সচল রাখার মূল দায়িত্ব পৌর প্রশাসনের।
ঈশ্বরদী পৌরসভার সচিব জহুরুল ইসলাম জানান, "সুপারমার্কেটের দোকান বরাদ্দে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে অচলাবস্থা কাটাতে জামানতের শর্ত শিথিল করে শিগগিরই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরিকল্পনা চলছে। অন্যদিকে নতুন জায়গায় নির্মিত কাঁচাবাজারটি চালুর বিষয়েও টেন্ডার প্রক্রিয়ার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।"
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত শর্ত শিথিল ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে মার্কেট দুটি চালু করা হোক, যাতে সরকারি অর্থ ও স্থাপনার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
এআইএল/সকালবেলা
|