গোপালগঞ্জে নৌকার অনুপস্থিতি: বর্জনের ডাক ছাপিয়ে কেন্দ্রমুখী সাধারণ ভোটার
হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ব্যালটে চিরচেনা ‘নৌকা’ প্রতীক নেই, তবুও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রমুখী হওয়ার এক নীরব প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ভোট বর্জনের ডাক দিলেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এর প্রভাব খুবই সামান্য।
আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই জেলায় প্রতীক না থাকায় নির্বাচনী সভা-সমাবেশে আগের মতো আবেগী উত্তাপ নেই। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দিতে চান না। ভোটারদের একাংশের ভাষ্য, প্রিয় প্রতীক না থাকাটা কষ্টদায়ক হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিক দায়িত্ব। প্রতীক ছাড়াই তাঁরা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দ ও এলাকার উন্নয়নের পক্ষে রায় দিতে চান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভোট বর্জনের বার্তাগুলো নিয়ে জনমনে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও সচেতন মহলের মতে, গোপালগঞ্জের মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই নির্বাচনমুখী। স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ মানুষ এখন আর কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের উস্কানিতে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে আগ্রহী নন। বরং ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের ওপর নিজেদের প্রত্যাশার ভার দিতেই তারা কেন্দ্রের পথ ধরবেন।
ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ রাখতে চর্তুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি নজরদারির মাধ্যমে একটি নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে কোনো প্রকার বাধা বা উস্কানি ছাড়াই কেন্দ্রে আসতে পারেন, সে লক্ষ্যে পুলিশ, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেটের টহল জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নৌকা প্রতীকের অনুপস্থিতিতে গোপালগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে কিছুটা শীতলতা বিরাজ করলেও, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটারদের বড় একটি অংশ ব্যালট বক্সে নিজেদের রায় জানাবেন—এমনটাই আভাস পাওয়া যাচ্ছে জেলাজুড়ে।
|