পানির নিচে কৃষকের স্বপ্ন: খরচের অর্ধেক দামেও মিলছে না ক্রেতা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: ধান কাটার শ্রমিক ও প্রতিকূল আবহাওয়া নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। একদিকে দফায় দফায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাচ্ছে জমির ধান, অন্যদিকে শ্রমিকের চড়া মজুরি ও ধানের ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকের চোখেমুখে এখন হাহাকার। মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর গ্রামের কৃষক শফিক মিয়া জানান, এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১১০০ টাকার বেশি, অথচ বাজারে ভেজা ধান বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৬০০ টাকায়। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ১০০০ টাকা। হারভেস্টর মেশিনের অপেক্ষায় থাকতে থাকতেই তার অধিকাংশ জমি এখন পানির নিচে।
জেলায় সরকারিভাবে ধানের দাম প্রতি কেজি ৩৬ টাকা (মণপ্রতি ১৪৪০ টাকা) নির্ধারণ করা হলেও কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন না। আড়তগুলোতে কাঁচা বা ভেজা ধান কেনা হচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ফলে নিরুপায় হয়ে কৃষকরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় আড়তের বাইরে ধান বিক্রি করছেন। সর্ষে, ডিজেল ও শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। পরিবহন ও মাড়াই খরচসহ প্রতি মণ ধানে কৃষকের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা, যার বিপরীতে তারা পাচ্ছেন নামমাত্র দাম।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের কৃষকদের অভিযোগ, আগাম বৃষ্টির কারণে নিচু জমি তলিয়ে যাওয়ায় এবং ধান শুকানোর জায়গা না থাকায় তারা পানির দরে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের মতে, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ হেক্টরের বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানির কারণে অনেক স্থানে কম্বাইন হারভেস্টর মেশিনও চালানো যাচ্ছে না। বর্তমানে জেলায় মাত্র ৪৪ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। যদি দ্রুত পানি না নামে, তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আই.এ/সকালবেলা
|