ছুটির দিনে সকালেই নিহত ১৫

প্রকাশ: শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনে সকালেই নিহত ১৫
সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ

অনলাইন ডেস্ক: শুক্রবার সকালে দেশের পৃথক দুই জেলায় ঘটে যাওয়া দুটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার এরুলিয়ায় বেপরোয়া একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় ৭ জন এবং সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি দূরপাল্লার বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ বছরের এক শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৭ জন।

আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা থেকে নওগাঁগামী ‘শাহ ফতেহ আলী’ পরিবহনের একটি এসি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা শ্রমিকদের হাটে ঢুকে পড়ে। এ সময় সেখানে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন ধানকাটার দিনমজুর।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন। পরবর্তীতে সংকটাপন্ন অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও ৪ জন।

নিহত ৭ জনের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন—গাইবান্ধার আমিরুল ইসলাম (৫০), নূর আলম (৫০), আবদুস ছামাদ ও বেলাল; এবং জয়পুরহাটের তাজমুল ও ফয়জার।

অন্যদিকে, সকাল ৭টা ৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে 'বেঙ্গল পরিবহন' ও 'ইউনিক পরিবহন'-এর দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন যাত্রী প্রাণ হারান। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাইজা নামের ৩ বছরের এক শিশুকন্যা মারা যায়।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। এছাড়া আহতদের সিংহভাগই একই বাসের আরোহী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার পর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন