লালমোহনে কলেজছাত্রকে খুন করে স্কুলছাত্রের আত্মসমর্পণ
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনে এক স্কুলছাত্রের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মো. ইব্রাহিম খলিল নয়ন (১৮) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বনির্ভর সড়ক সংলগ্ন বালুর মাঠে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই হত্যাকারী স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ আল মানিক রক্তমাখা ছুরি হাতে নিজেই লালমোহন থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে।
নিহত নয়ন উপজেলার ড. আজাহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ছালাউদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে, আত্মসমর্পণকারী মানিক লালমোহন সদর ইউনিয়নের উত্তর ফুলবাগিচা গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে এবং উপজেলা সংলগ্ন আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
স্থানীয় ও বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে, দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমঘটিত বিষয় এবং মোবাইল ফোনে থাকা কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে মানিকের সাথে কলেজছাত্র নয়ন ও তার বন্ধুদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে মানিক বাড়ি থেকে একটি ধারালো চাকু নিয়ে স্কুলে আসে এবং দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় অংশ নেয়।
স্কুলের শিক্ষকরা জানান, দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ হওয়া মাত্রই বিদ্যালয় গেট থেকে মানিককে কয়েকজন বহিরাগত ছাত্র ডেকে নিয়ে যায়। এরপর স্বনির্ভর সড়কের পাশে বালুর মাঠে ছবি ও ভিডিওর বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মানিক তার কাছে থাকা চাকু বের করে নয়নসহ তিনজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নয়ন মারা যান। এ সময় নয়নের বন্ধু মো. আরমান (২২) ও মো. আশরাফ (২৫) গুরুতর আহত হন। আহত দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ ছাত্র ও সহপাঠীরা লালমোহন থানার সামনে জড়ো হয়ে এই নৃশংস খুনের বিচারের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিলে ছাত্ররা শান্ত হন এবং সড়ক থেকে সরে যান।
লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "তুচ্ছ ঘটনা ও মারামারির জেরে মূল অভিযুক্ত মানিকের ছুরিকাঘাতে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। ঘাতক মানিক রক্তমাখা ছুরিসহ বর্তমানে আমাদের হেফাজতে রয়েছে এবং সে নিজেই থানায় এসে ধরা দিয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।"
এআইএল/সকালবেলা
|