আ: লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ
জুয়েল রানা, চলনবিল (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে কামাল হোসেন (২৬) নামে এক যুবককে মারধর, বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ এবং ঘরে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কামাল হোসেন সলঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কামাল হোসেন উপজেলার সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আগরপুর দরগাপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আগরপুর দরগাপাড়া এলাকায় প্রথম দফায় মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত আছাব সরকারের ছেলে আলমসহ কয়েকজনের সঙ্গে কামাল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় মো. আলম (৪৫), আব্দুল হাকিম মন্ডল (৪১), ইয়ারুল ইসলাম (৩৯), ইয়াছিন আলী (৪০) ও আব্দুর রহিম (৩২) সহ কয়েকজনের সঙ্গে কামালের কথা-কাটাকাটি হয়। কামাল হোসেনের অভিযোগ, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাকে ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কালশিরা জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে কামাল হোসেনের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন। তাঁরা কামাল ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে ঘরে প্রবেশ করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
কামাল হোসেন দাবি করেন, অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। ঘটনাটির সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধর ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, "আমি তাকে কোনো মারধর করিনি বা তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটাইনি, সব মিথ্যা। আমি আওয়ামী লীগ করি, তাই আমার নামে ১০টি মামলাও সে দিতে পারে, এতে কিছু করার নাই।"
এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী জানান, লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা