পর্নোগ্রাফি মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তাঁর স্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে পর্নোগ্রাফি মামলায় আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেবহাটা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মামুন চাকরিচ্যুত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য ও চন্ডিপুর প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক করিম উল্লাহ মাস্টারের ছেলে।
গত ১ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর সাবেক স্ত্রীকে তৃতীয় আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয়-সাত মাস আগে পারিবারিক কারণে স্ত্রীকে তালাক দেন ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান সাহেব আলী। পরবর্তী সময়ে ওই নারীর সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ তৈরি হয় এবং ভুক্তভোগীর অজান্তে দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হয়। গত ১৫ অক্টোবর থেকে আসামিরা ওই ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদা দাবি করতে শুরু করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর অভিযুক্তদের ফেসবুক আইডি থেকে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যা সামাজিকভাবে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান সাহেব আলী বলেন, “ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা দেওয়ার পরও তারা ব্ল্যাকমেইল চালিয়ে যায় এবং ভিডিও নিয়ে আপত্তিকর কনটেন্ট বানাতে থাকে। নিরুপায় হয়ে আমি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছি।”
সাতক্ষীরা সদর থানার তদন্ত ওসি জামিল কবির জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা