কক্সবাজারে মাতামুহুরী নদীতে তীব্র ভাঙন, বিলীন শতাধিক বাড়িঘর

প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে মাতামুহুরী নদীতে তীব্র ভাঙন, বিলীন শতাধিক বাড়িঘর
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর ভাঙনে বিলীন হওয়া ঘরবাড়ি ও নদীর ক্ষতিগ্রস্ত তীরবর্তী এলাকা (ফাইল ছবি)।

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীতে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙনের তাণ্ডব।

বন্যার সময় পানির প্রবল তোড়ে নদীর তীরের একাধিক পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে যে ক্ষতি হয়েছে, বন্যা পরবর্তী ভাঙনে তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২৬টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

একই সাথে উপজেলার কোনাখালী এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীর সঙ্গে লোকালয়ের জোয়ার-ভাটার পানি সরাসরি যাতায়াত করছে। অন্যদিকে পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় তীরঘেঁষা প্রধান সড়কটি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে।

বর্তমানে মাতামুহুরী নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে রয়েছে নদী তীরবর্তী ৬টি ইউনিয়নের প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। এছাড়া পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা ও রাজাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ ধসে চরম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনায় কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী, মরংঘোনা ও পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া অংশে প্রতিরক্ষামূলক তীর সংরক্ষণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছে।

নদী ভাঙনের সার্বিক ভয়াবহতা তুলে ধরে চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিম বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও নদী তীর পুনর্নির্মাণ করা না হলে পৌরসভার অন্তত ৬টি ইউনিয়নের বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে যাবে। আমরা স্থায়ী সুরক্ষার জন্য নদী ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে টেকসই সিসিব্লক স্থাপনের জোরালো দাবি জানাচ্ছি।”

পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক রূপ পর্যালোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ চেয়ে পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে আজ রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরজমিনে পরিদর্শনে যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মোঃ শফিকুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পাউবো কক্সবাজার সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম এবং বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেবসহ মাঠ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত মহাপরিচালক সংশ্লিষ্টদের জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (চকরিয়া-কুতুবদিয়া জোন) সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, “সাম্প্রতিক ঢল ও বন্যায় বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ভেঙে গেছে। পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত টেকসই সংস্কারকাজ সম্পাদন করার আদেশ দিয়েছেন, যাতে নদী ভাঙন রোধ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্থায়ী নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয়।

মন্তব্য করুন