টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও বন্যায় ৩০ জনের মৃত্যু: সংসদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এই তথ্য জানান।
সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব বলেন, “গত কয়েক দিনের রেকর্ডভাঙা অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে সেখানে একাধিক বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে বেশ কিছু মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী—পাহাড়ধস ও দুর্যোগে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৫ জন, কক্সবাজারে ১৯ জন, রাঙামাটিতে ১ জন এবং বান্দরবান জেলায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।”
বন্যা ও পাহাড়ধস দুর্গত অবরুদ্ধ মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা, নগদ আর্থিক অনুদান এবং খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১১টি, কক্সবাজারে ৬৪০টি, রাঙামাটিতে ২১টি, খাগড়াছড়িতে ১৩৫টি এবং বান্দরবানে ২২০টি সুসজ্জিত আশ্রয়কেন্দ্র ইতিমধ্যেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুপেয় পানি ও শিশুখাদ্যসহ শুকনো খাবারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বা নিচু এলাকায় বসবাসরত লোকজনকে জোরপূর্বক নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক মাইকিং ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুই দফায় নগদ টাকা ও বিশেষ খাদ্যসহায়তা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণমন্ত্রী জাতীয় সংসদকে আশ্বস্ত করে জানান, সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দেশের এই দুর্যোগ পরিস্থিতি গভীর ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রতি মুহূর্তে মাঠ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ত্রাণভান্ডার থেকেও ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জেলায় জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ থোক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, মাঠপর্যায়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে আরও জরুরি অর্থনৈতিক ও খাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।
পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঠেকাতে এবং পাহাড় কাটা রোধে নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যদের (এমপি) সাধারণ জনগণের মাঝে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করার জোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে অগ্রিম ১০০ টন করে চাল ও ২ লাখ টাকা করে আপৎকালীন বিশেষ তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংসদকে অবহিত করেন।
|