বিরলে নোনা খাড়ি খননে কৃষকের ভাগ্যবদল

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ণ
বিরলে নোনা খাড়ি খননে কৃষকের ভাগ্যবদল

তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় নোনা খাড়ি পুনঃখঁনন প্রকল্পের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্পের ফলে স্থানীয় কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা করছেন অবহেলিত এই জনপদের শত শত কৃষক ও সাধারণ এলাকাবাসী।

৬নং ভান্ডারা ইউনিয়নের পাকুড়া স্থলবন্দর হতে উত্তরে বোচাগঞ্জ সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত এই নোনা খাড়িটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মৃতপ্রায় ও ভরাট হয়ে পড়েছিল। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাব এবং বর্ষায় তীব্র জলাবদ্ধতায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতো। স্থানীয় কৃষকদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৬ টাকা বরাদ্দে খাড়িটি পুনঃখঁননের বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু খাল খননই নয়, পানি নিষ্কাশনের জন্য পাকা ড্রেইন, কালভার্ট এবং খালের স্থায়িত্ব বাড়াতে পাড়ে ঘাসের চামড়া ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।

কাজ প্রায় শেষের দিকে হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্থানীয় কৃষকরা জানান, খাড়িটি সচল হওয়ায় এখন থেকে শুষ্ক মৌসুমেও বোরো বা রবি ফসলের জন্য পর্যাপ্ত সেচের পানি মিলবে এবং বর্ষার অতিরিক্ত পানি সহজে নেমে যাবে। এছাড়া খালের পাড় দিয়ে যাতায়াত এবং উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া সহজ হবে।

বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল ইসলাম জানান, গত ৩ মে এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে শতভাগ মানসম্মত কাজ উপহার দিতে উপজেলা প্রশাসন থেকে নিয়মিত কঠোর তদারকি করা হচ্ছে। কাজ প্রায় শেষ, আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী স্থানীয় মানুষ ও কৃষকেরা এর শতভাগ সুফল পাবেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ কর্মসূচীর মূল লক্ষ্যই হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। এই টেকসই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল হওয়ার পাশাপাশি জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন