কাউখালীতে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
মো. সোহরাওয়ার্দী সাব্বির, রাঙামাটি: রাঙামাটির কাউখালীতে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই নির্বিচারে পাহাড় কাটা, নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং পুরোনো সামগ্রী পুনর্ব্যবহার করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কাউখালী সুগার মিল সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ উন্নয়নের কাজ করছে। দুই প্যাকেজে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ের এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স'। যার প্রতিনিধি ও কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রকল্পের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত কারিগরি নির্দেশনা ও মান বিন্দুমাত্র অনুসরণ করা হচ্ছে না। সড়কে ভালো বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়ি লাল মাটি। এ ছাড়া পুরোনো রাস্তার কার্পেটিংয়ের ব্ল্যাকপার্ট তুলে তা পুনরায় সাব-বেস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট দিয়ে ম্যাকাডম তৈরি এবং আরসিসি কাজের নিচে প্রয়োজনীয় ইটের সলিং না দেওয়ার পাশাপাশি নিম্নমানের পাথর ও পুরোনো ঢালাই ভাঙা খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ তদারকি না থাকায় উদ্বোধনের অল্প দিনের মধ্যেই সড়কটি ধসে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটবে।
সড়ক প্রশস্তকরণের নামে রাঙামাটির পরিবেশগত ভারসাম্য ধ্বংস করে পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। অথচ এর কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্রই নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের কয়েকটি অংশে পাহাড় কাটার ফলে এখনই মাটি ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলে এসব স্থানে ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পরে কথা বলবেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর রাঙামাটি কার্যালয় সূত্র জানায়, পাহাড় কাটার জন্য এলজিইডি রাঙামাটি অফিস থেকে একটি আবেদন করা হয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন। এখনো কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদনহীন পাহাড় কাটার অভিযোগ পেয়ে এলজিইডিকে কাজ বন্ধের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শফি আহমেদ বলেন, "কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোথাও কোনো গরমিল হলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এআইএল/সকালবেলা
|