সিলেটে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষে নিহত ১

প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ণ
সিলেটে দুপক্ষের তুমুল সংঘর্ষে নিহত ১

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাটে পূর্ব শত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কামরুল ইসলাম (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাবেক এক ইউপি সদস্যসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (২২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার লেঙ্গুড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য বিলাল উদ্দিনের বাড়ির পাশের নদীতীরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত কামরুল ইসলাম লেঙ্গুড়া গ্রামের কুতুব আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত কামরুলের বিরুদ্ধে থানায় ডাকাতি ও চুরিসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মামলা রয়েছে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন— সাবেক ইউপি সদস্য বিলাল উদ্দিন ও তাঁর মেয়ে মোছাম্মৎ রোকসানা বেগম।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাবেক ইউপি সদস্য বিলাল উদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে কামরুল ইসলামের পক্ষের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ ও তীব্র উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ উঠেছে, সংঘর্ষের শুরুতেই কামরুল ইসলাম দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বিলাল উদ্দিনের মেয়ে রোকসানা বেগমকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন। এতে তাঁর বাম হাত কেটে গুরুতর জখম হয়। মেয়ের চিৎকার শুনে বিলাল উদ্দিন ও তাঁর সমর্থকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং কামরুলের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান। দুপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও কোপাকুপিতে কামরুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাত্ব অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় কামরুলকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিষয়ে নিহতের চাচাতো ভাই আলাউদ্দিন বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। কামরুল কিছুটা উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবের হওয়ায় এলাকায় তাঁর অনেক শত্রু তৈরি হয়েছিল। সোমবার দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজনই তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে জানতে পেরেছি।”

অন্যদিকে চিকিৎসাধীন সাবেক ইউপি সদস্য বিলাল উদ্দিন দাবি করেন, “কামরুলসহ কয়েকজন ওত পেতে থেকে আমার বাড়ির পাশে মেয়েকে একা পেয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। মেয়ের চিৎকার শুনে আমি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমার ওপরও তারা নৃশংস হামলা চালায়। মূলত আত্মরক্ষা করতে গিয়েই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।”

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পূর্ব শত্রুতা ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত কামরুলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন