সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ণ
সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণ (ফাইল ছবি)।

মোঃ ইমরান মাহমুদ, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদাম কেন্দ্র করে সরকারি চাল ও ধান সংগ্রহে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠার তীব্র অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের মূল তীর জামালপুর সদর উপজেলার খড়খড়িয়া গ্রামের মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকনের দিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা মিললে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকন দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরকারি চাল সংগ্রহ করে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কালোবাজারে পাচার করে আসছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর র‍্যাব-১৪ অভিযান চালিয়ে লিংকনের নিজস্ব রাইস মিল থেকে আনুমানিক ৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের ১৯,৮৪০ কেজি সরকারি চাল উদ্ধার করে। পরদিন এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জামালপুর সদরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মুখে পড়ায় লিংকন তার মূল কার্যক্রম সরিষাবাড়ী উপজেলায় স্থানান্তর করেছেন। গত কয়েক মাস ধরে সহযোগীদের নিয়ে তাকে নিয়মিত সরিষাবাড়ী খাদ্য গুদামে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চাল সরবরাহের জন্য মহাদান ইউনিয়নের সানাকুর এলাকায় অবস্থিত ‘এসএস অটো রাইস মিল’-এর স্বত্বাধিকারী আনোয়ার উস সাদাবকে (লাঞ্জু মিয়া) দুই কিস্তিতে মোট ১২৮ টন ধান বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই মিলের কর্মচারী পরিচয়ে লিংকন ধান সংগ্রহ ও চাল সরবরাহ প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অন্যান্য বৈধ মিল মালিকরা অভিযোগ তোলেন। এর ফলে প্রকৃত ও সৎ মিল মালিকরা যেমন তাদের ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি সরকারও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মোস্তাফিদুল ইসলাম লিংকনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সরিষাবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা রুবিনা আক্তার বলেন, “লিংকনকে ওই রাইস মিলের মালিকের কর্মচারী হিসেবেই চিনি। তবে সরকারি কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম, সিন্ডিকেট কিংবা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

জামালপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: আসাদুজ্জামান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার ঘোষণা দিয়ে জানান, তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন