তিন বিভাগের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং দেশের অভ্যন্তরে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট অঞ্চলের কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, যার ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং কোথাও কোথাও আকস্মিক প্লাবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার স্পষ্ট আভাস দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই শঙ্কার কথা জানানো হয়।
পাউবোর সতর্কবার্তায় বলা হয়, বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া তিস্তা নদী ডালিয়া (নীলফামারী), কুশিয়ারা নদী মারকুলি (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে সতর্কসীমার একদম কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বার্তায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি জানিয়ে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ১ জুলাই থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অপরদিকে, গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গার পানি সমতল হ্রাস পেলেও পদ্মা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল আগামী ২ দিন স্থিতিশীল এবং পরবর্তী ৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে; তবে এই মুহূর্তে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।
রংপুর বিভাগের আবহাওয়া ও নদী পরিস্থিতি তুলে ধরে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, যা আগামী ৩ দিনের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই নদীগুলো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি পেয়ে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও লোকালয় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি যেভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে সংশ্লিষ্ট জেলার নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরিস্থিতির প্রতি সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
|