ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
আহমেদ লিওন, ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
আজ রবিবার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এই ঘটনার জেরে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় ৩ ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ও মানিকদাহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সকালে পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দখলকে কেন্দ্র করে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বর এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে প্রথম কথা-কাটাকাটি ও পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের কয়েক হাজার গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিণত করে। পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা ও আশপাশের একাধিক ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে কয়েক হাজার উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক দফা টিয়ারশেল (কাঁদানে গ্যাস) নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষকারীদের ইটের আঘাতে পুলিশের সার্কেল কর্মকর্তা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিক এবং স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দাসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুপুরের পর সংঘর্ষ থেমে গেলেও পুরো এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুরোপুরি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে ফরিদপুর জেলা পুলিশ লাইন্স থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
এআইএল/সকালবেলা
|