আমতলীতে বাবার নেতৃত্বে ছেলে খুন
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বাবার নেতৃত্বেই ছেলে রিপন কাজীকে (৩৫) কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করার লোমহর্ষক অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত রিপন কাজী আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন।
গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামের দুইজনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহত রিপন কাজীর বাড়ি আমতলীর গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিপন কাজীর বাবা মিজানুর রহমান ওরফে ভুট্টো কাজী একাধিক বিয়ে করায় দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। এর জেরে দুই বছর আগে রিপন কাজী তাঁর বাবাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা মিজানুর কাজী এর প্রতিশোধ নিতে ছেলেকে মারধর করলেও তাঁর ক্ষোভ কমেনি।
এরই মধ্যে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রিফাত কাজীর সাথে শ্রমিক দল নেতা রিপন কাজীর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। নিহতের ভাই সাব্বির কাজীর অভিযোগ, এই রাজনৈতিক বিরোধকে কাজে লাগিয়ে বাবা মিজানুর কাজী এবং তাঁর ভাইয়ের ছেলে সজিব কাজী (ঢাকা বিমানবন্দরে কর্মরত), ছাত্রদল সভাপতি রিফাত কাজীসহ অন্য সহযোগীরা মিলে রিপনকে হত্যার চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি করেন।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে রিপন কাজী ও তাঁর চাচাতো ভাই রাজিব কাজী মোটরসাইকেলযোগে বাজারঘোনা এলাকা থেকে গ্রামের বাড়ি কালীবাড়ী ফিরছিলেন। পথিমধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণখা এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা ১৫-২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাঁদের গতিরোধ করে।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী রাজিব কাজী বলেন, "মোটরসাইকেল থামানোমাত্রই রাসেল কাজী নামের একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপনকে আঘাত করে। এতে আমরা মোটরসাইকেলসহ সড়কে লুটিয়ে পড়ি। আমি প্রাণভয়ে দৌড়ে পাশের খালে ঝাঁপ দিলেও রিফাত, রাসেল, রাহাত, সোহাগ ও মনিরসহ ২০ জন মিলে রিপনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।" পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত রিপনকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রক্তমাখা ছোপ থেকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত বাবা ও অন্য আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তবে পালানোর সময় স্থানীয় জনতা মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামের দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। যেহেতু ঘটনাস্থল পটুয়াখালী জেলা, তাই আমতলী থানা পুলিশ আটককৃতদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ঘটনাস্থল থেকে বাবার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। আটক দুইজনকে পটুয়াখালী পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা পটুয়াখালী থানা পুলিশ গ্রহণ করবে।"
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, "জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।" লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা
|