নেভিলের কটু মন্তব্যের কড়া জবাব রোমেরোর
ক্রীড়া ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আক্রমণভাগের ঝড়ের পাশাপাশি জমাট রক্ষণভাগ দিয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনাল পর্যন্ত সাতটি ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা প্রতিপক্ষের জালে ১৯ গোল দেওয়ার পাশাপাশি হজম করেছে মাত্র ৭টি গোল। তা সত্ত্বেও দলটির রক্ষণভাগ নিয়ে সমালোচনা থামছে না।
সম্প্রতি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার উত্তেজনাকর সেমিফাইনাল ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুই মূল স্তম্ভ— ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা খেলোয়াড় ও বর্তমান টিভি আলোচক গ্যারি নেভিল।
গ্যারি নেভিলের বিতর্কিত বক্তব্য:ইংলিশ ধারাভাষ্যকার গ্যারি নেভিল রোমেরো ও লিসান্দ্রোর রক্ষণ জুটিকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, এরা হলো ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভালো এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বাজে ডিফেন্ডার জুটি’।
রোমেরোর কড়া জবাব: টটেনহ্যাম হটস্পারের ২৮ বছর বয়সী তারকা সেন্টার ব্যাক ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরোর কানে নেভিলের এই মন্তব্য পৌঁছানোর পর তিনি বিন্দুমাত্র দেরি না করে এর জবাব দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যম ডি স্পোর্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেভিলের মন্তব্য প্রসঙ্গে রোমেরো বলেন,
“আমি শুধু একটাই আশা করি, যখন আমি ফুটবল থেকে অবসরে যাব, তখন আমাকে যেন কেউ নির্বোধ না বলে। আমি কোনো প্রাক্তন খেলোয়াড় বা অন্য কারও ব্যক্তিগত সমালোচনা করতে চাই না। কারণ দিন শেষে আমরা সবাই জাতীয় দলের জন্য নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে খেলি।”
রোমেরো আরও যোগ করেন,
“কখনও কখনও মাঠের পারফরম্যান্স আমাদের মনের মতো হয়, আবার কখনও হয় না। কিন্তু টানা দ্বিতীয়বারের মতো দেশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমার মনে হয় আমরা ইতিহাস গড়েছি। দেশের জার্সির মান ও গুরুত্ব আমরা অন্য যে কারও চেয়ে অনেক ভালো বুঝি।”
মাঠের পরিসংখ্যানে রোমেরো-লিসান্দ্রো জুটি: চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ বাদে বাকি ছয়টি ম্যাচেই একাদশে একসঙ্গে খেলেছেন ২৮ বছর বয়সী রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। যে ছয়টি ম্যাচে তারা দুজন রক্ষণে এক জোড়া হিসেবে মাঠে নেমেছেন, তার দুটিতে কোনো গোলই হজম করতে হয়নি বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। নেভিলের মতো সমালোচকদের কথাকে গায়ে না মেখে তারা এখন আগামী রোববারের মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ট্রফি ধরে রাখার লড়াইয়ে মনোযোগ দিচ্ছেন।
|