বন্যায় মৌলভীবাজারে ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এই চার উপজেলায় প্রায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানিয়েছে, এসব সড়ক, সেতু ও কালভার্ট মেরামত ও পুনর্নির্মাণে প্রায় ২৮ কোটি টাকা প্রয়োজন।
জানা গেছে, বন্যায় জেলার অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামীণ জনপদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে, কোথাও ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও পানির তীব্র স্রোতে সড়কের পুরো অংশই বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এসব রুটে সব ধরনের যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলায় এলজিইডির বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় পিচ ও খোয়া উঠে গেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন যানবাহন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার ৯৫ কিলোমিটার পাকা সড়কের পাশাপাশি বেশ কিছু সেতু ও কালভার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অনেক স্থানে এখনও পানি পুরোপুরি না নামায় চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
কমলগঞ্জের বাসিন্দা ধীরেন্দ্র দেবনাথ বলেন, "ধলাই নদীর ভাঙনে আদমপুর-ইসলামপুর সড়কের বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা চলাচলের একদম অযোগ্য।"
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লাহ বলেন, "বন্যায় এলজিইডির প্রায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আর্থিক অঙ্কে প্রায় ২৮ কোটি টাকার মতো। তবে সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করতে আরও এক-দু’দিন সময় লাগবে। আমরা দ্রুত প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্কার কাজ শুরু করার চেষ্টা করছি।"
এআইএল/সকালবেলা
|